
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ‘নৌকা ছাড়া কিসের ভোট, নো বোট নো ভোট’ লেখা পোস্টার সাঁটানোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টারগুলো কে বা কারা লাগিয়েছে—এ নিয়ে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এসব পোস্টার লাগিয়ে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে বরগুনা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করইতলা এলাকার সোনাখালী এলাকায় ফেসবুক লাইভে এসে এ অভিযোগ তোলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুরাদ খান। লাইভে তাকে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে পোস্টার দেখাতে দেখা যায়।
অ্যাডভোকেট মুরাদ খান বলেন, “এসব পোস্টার জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এটি মূলত নির্বাচন বানচালের একটি কৌশল। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে চাইছে, যাতে ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ায়।” তিনি অবিলম্বে এসব পোস্টার অপসারণে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
লাইভে বরগুনা জেলা বিএনপির নেতা মো. হাবিবুর রহমান পান্নাকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে একজন অভিযোগ করে বলেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্যই এসব পোস্টার লাগিয়েছে।
নাসিমা নামের এক নারী বলেন, “চক্রান্তকারীরা চেষ্টা করলেও সাধারণ ভোটাররা সচেতন আছেন। এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে যেকোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটের পরিবেশ বজায় রাখা সহজ হবে।