
বরগুনা প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বরগুনা-১ ও বরগুনা-২ আসনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে গুজব ও অপপ্রচারের ছড়াছড়িতে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত 👇

এর পরপর বিভিন্ন প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার, ভুয়া চ্যাটিং স্ক্রিনশট ও সাজানো ফটোকার্ড ছড়িয়ে দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগ উঠেছে একটি কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে!
বরগুনা-২ (বামনা–পাথরঘাটা–বেতাগী) আসনে প্রথমে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন—এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ফটোকার্ড ভাইরাল হয়। এসব কার্ডে জাতীয় দৈনিক যুগান্তর ও আমার দেশ পত্রিকার লোগো ব্যবহার করা হয়। তবে দলটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়, এ তথ্য সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন।
এর কিছুক্ষণ পর একই কৌশলে দৈনিক ইনকিলাব ও প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনির প্রার্থিতা প্রত্যাহারের খবরও ছড়ানো হয়। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বাড়ে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হাতপাখা প্রার্থীর ভাগ্নেকে আটক করেছে। বর্তমানে বরগুনায় পুলিশের একাধিক টিম ও নৌবাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন 👇👇👇
হামলার ঘটনার পরপরই রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে “সকাল বাংলা নিউজ” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে নজরুল ইসলাম মোল্লার নামে কথোপকথনের একটি কথিত স্ক্রিনশট ভাইরাল করা হয়, যা পরে সংশ্লিষ্টরা ভুয়া ও সম্পাদিত বলে দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, পেজটি অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছে।
একইভাবে বরগুনা-২ আসনে “পাথরঘাটা ডট কম” এবং বরগুনা-১ আসনে “সকাল বাংলা নিউজ” নামের ফেসবুক পেজ থেকে বিভিন্ন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলেছেন একাধিক প্রার্থীর সমর্থকরা।
বিএনপির পক্ষ থেকেও গুজব ও অপতথ্য বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। দলটির নেতারা বলেন, নির্বাচনের আগের রাতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে ভোটের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু রাখতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে রয়েছে। এ অবস্থায় সচেতন নাগরিক সমাজ ভোটারদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার এবং নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমের সূত্র অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার এই প্রবণতা সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশের জন্য হুমকি—এটি প্রতিরোধে দ্রুত নজরদারি ও আইনগত পদক্ষেপ জরুরি।