
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা–বামনা–বেতাগী) আসনে প্রচারণা জোরদার হলেও অধিকাংশ প্রার্থী এখনো ভোটারদের কাছে অপরিচিত। মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আলোচনায় রয়েছেন মূলত দু’জন—বিএনপির মো. নূরুল ইসলাম মণি (ধানের শীষ) ও জামায়াতে ইসলামীর ডা. সুলতান আহমদ (দাঁড়িপাল্লা)।
সাবেক এমপি ও তৃণমূলভিত্তিক শক্ত অবস্থানের কারণে নূরুল ইসলাম মণি এগিয়ে আছেন পরিচিতির দিক থেকে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকায় ডা. সুলতান আহমদও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মিজানুর রহমানও প্রচারণায় সক্রিয় থাকলেও বাকি ৬ প্রার্থীকে অনেক ভোটারই চেনেন না বলে জানিয়েছেন।
৬ জন প্রার্থী ভোটারদের কাছে অচেনা!
দলগুলো প্রার্থী দিলেও সাধারণ ভোটাররা তাদের নাম বা রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। এই তালিকায় রয়েছেন: বাংলাদেশ কংগ্রেস থেকে মো. সাব্বির আহম্মেদ (ডাব), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি থেকে মো. কামরুজ্জামান লিটন (কাঁঠাল), জাতীয় পার্টি থেকে আবদুল লতিফ ফরাজী (লাঙ্গল), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম থেকে সৈয়দ মো. নাজেস আফরোজ (সিংহ), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে মো. সোলায়মান (আম) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রাশেদ উদ জমান (জাহাজ)।
পাথরঘাটা বাজারের ভোটার মো. রুবেল বলেন, টিভি বা ফেসবুকের খবরে অনেকের নাম শুনি, কিন্তু মাঠে তাদের কাউকে খুব একটা দেখি না। নূরুল ইসলাম মণি বা ডা. সুলতান আহমেদকে চিনি, কিন্তু বাকিদের চিনবো কীভাবে?
বেতাগীর কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, ভোট আইলেই অনেকে খাড়ায় (দাঁড়ায়), কিন্তু কাজের সময় কাউকে পাওয়া যায় না। চেনা মানুষের মধ্যেই ভোট দেওয়ার চিন্তা আছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মাঝে এই অপরিচিতির প্রধান কারণ হলো প্রার্থীদের মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদী গণসংযোগের অভাব।
ভোটারদের মতে, নির্বাচনের সময় এলেই অনেক প্রার্থী দৃশ্যমান হন, কিন্তু বছরজুড়ে গণসংযোগের অভাব থাকায় পরিচিতি তৈরি হয় না। বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ সময়ের প্রচারণাই নির্ধারণ করবে অচেনা প্রার্থীদের ভাগ্য।
এই আসনে মোট ভোটার ৩,৩৭,৭৪৪ জন এবং ভোটকেন্দ্র ১২২টি। বর্তমানে সম্ভাব্য মূল লড়াই ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে—এমন ধারণাই বেশি শোনা যাচ্ছে।