
বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনা–২ (পাথরঘাটা–বামনা–বেতাগী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী পরিবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন, হামলা ও নির্বাচনী পরিবেশ নষ্টের অভিযোগ তুলে একই দিনে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াত ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা,
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বরগুনায় জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সমাবেশে যাওয়ার পথে বাধা ও হামলার প্রতিবাদে জেলা জামায়াত সংবাদ সম্মেলন করে। বিকেল চারটায় জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ।
তিনি অভিযোগ করেন, তাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে বাধার মুখে পড়েন এবং হামলার শিকার হন। তার দাবি, বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনির সমর্থিত ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা পাথরঘাটায় জামায়াতের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়া কর্মী-সমর্থকদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরুর ওপর হামলার ঘটনারও প্রতিবাদ জানানো হয়। জামায়াত প্রার্থী অভিযোগ করেন, ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে নির্বাচনী এলাকায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হচ্ছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে____

একই দিনে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, তিনি পূর্বে তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সবসময় আইন মেনে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়াও জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ‘হলুদ খামে টাকা দিয়ে’ ভুয়া সংবাদ সম্মেলন করার অভিযোগ তোলেন তিনি!
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বহিরাগত ব্যক্তিরা বোরকা পরে নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে—এমন তথ্য-প্রমাণ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জামায়াত সমর্থিত পক্ষ ভোটারদের বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে অর্থ লেনদেনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও দাবি করেন। এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে নির্বাচনের সময় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি প্রার্থী আরও বলেন, একটি সাইবার টিম ফেইক আইডি ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনা ব্যাহত করার পরিকল্পনার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, তিনি প্রতিপক্ষকে বহিরাগত লোকজন না আনার অনুরোধ জানিয়েছেন। তার দাবি, বাইরের লোকজন নৌযানে করে এলাকায় প্রবেশ করছে, যা থেকে সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাতেও বহিরাগতদের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
একই আসনের প্রধান দুই প্রার্থীর এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে উভয় পক্ষই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেছেন।
আরো দেখুন 👇
বেতাগীতে অগ্নিকাণ্ডে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের বসতঘর পুড়ে ছাই