
বিশেষ প্রতিবেদন, বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন জেলার উন্নয়ন অগ্রাধিকার নির্ধারণ শুরু করেছেন। দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা বরগুনা—যা দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে—সেই জেলাকে বিশেষ নজরদারিতে আনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
মন্ত্রীসভা গঠনের সময় বরগুনাবাসীর একটি বড় প্রত্যাশা ছিল স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন। তবে পূর্ণাঙ্গ তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় জেলায় কিছুটা হতাশা দেখা দেয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উপকূলীয় এই জনপদের উন্নয়ন-অভিলাষই সেই প্রত্যাশার মূল কারণ।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আহ্বান-
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে নুরুল ইসলাম মনির সঙ্গে বরগুনার সার্বিক উন্নয়ন ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জেলার অবকাঠামো, উপকূলীয় সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ে অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
আরও জানা যায়, বরগুনার উন্নয়ন প্রকল্পসমূহে সরাসরি তদারকি ও সমন্বয় ভূমিকা রাখতে এমপি মনিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্ভাব্য অগ্রাধিকার খাতসমূহ-
জেলা-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নিম্নোক্ত খাতগুলোতে দ্রুত উদ্যোগ দেখা যেতে পারে:
সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নজরদারি:
বরগুনাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ পর্যবেক্ষণাধীন জেলা হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব রয়েছে, যাতে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসে।
অবকাঠামো উন্নয়ন:
গ্রামীণ সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণে বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তুতি চলছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক পুনর্বাসন:
পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সহিংসতা ও মামলার শিকার পরিবারগুলোর আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনে সহমর্মিতামূলক কর্মসূচির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
উপকূলীয় সুরক্ষা জোরদার:
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসপ্রবণ এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করা যায়।
এমপি নুরুল ইসলাম মনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরগুনার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সবাইকে ধৈর্য ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জনমনে প্রত্যাশা-
খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার পেলে দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনা কাটিয়ে একটি আধুনিক, দুর্যোগ-সহনশীল বরগুনা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে ঘোষিত অগ্রাধিকারকে দ্রুত দৃশ্যমান প্রকল্পে রূপ দেওয়া। বাস্তবায়নের গতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলেই বরগুনার জন্য এই অধ্যায়টি “নতুন দিগন্ত” হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারে।