
বরগুনা জেলার গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার এক বিশাল অংশ বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অধিকাংশ পিচঢালা সড়ক এখন খানাখন্দে ভরা। ফলে জেলার সাধারণ মানুষ, রোগী এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে,
বর্তমান পরিস্থিতির বিবরণ:
জেলার সড়কগুলোতে সরেজমিনে এবং স্থানীয় তথ্যে যে চিত্র পাওয়া গেছে তা নিম্নরূপ:
– সড়কের দশা: ১,৪৪১ কিলোমিটার কার্পেটিং সড়কের একটি বড় অংশের পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
– মৌসুমি ভোগান্তি: শুষ্ক মৌসুমে অতিরিক্ত ধুলাবালি এবং বর্ষাকালে কাদা-পানির কারণে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
– পরিবহন সংকট: রাস্তার করুণ অবস্থার কারণে চালকরা এসব পথে গাড়ি চালাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
আর্থ-সামাজিক প্রভাব:
– স্বাস্থ্যঝুঁকি: গর্ভবতী নারী ও গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় ভাঙা রাস্তার কারণে জীবনঝুঁকি বাড়ছে।
– শিক্ষা: স্কুলগামী শিশুরা সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না এবং দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
– অর্থনীতি: গ্রামীণ সড়কগুলো দিয়ে কৃষিপণ্য ও মালামাল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় জেলার সামগ্রিক অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ছে।
পরিসংখ্যান একনজরে (বরগুনা এলজিইডি)
| সড়কের ধরন | মোট দৈর্ঘ্য (কিলোমিটার) |
| মোট সড়ক – ৭,৫৬১ |
| কার্পেটিং (পাকা) সড়ক – ১,৪৪১ |
| কাঁচা সড়ক – ৬,১২০ |
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও গৃহীত পদক্ষেপ:
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মতে, প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাবে সংস্কার কাজ থমকে ছিল। তবে বর্তমানে:
– অধিকাংশ সড়ক মেরামতের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
– নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান জানিয়েছেন, টেন্ডার শেষে মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু হলে জেলার যাতায়াত ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
– দ্রুত সংস্কার: টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রধান গ্রামীণ সড়কগুলোর কাজ শেষ করা।
– মান নিয়ন্ত্রণ: সংস্কার কাজে ব্যবহৃত উপকরণের গুণগত মান নিশ্চিত করা যাতে অল্প দিনেই রাস্তা পুনরায় নষ্ট না হয়।
– কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ: ৬,১২০ কিলোমিটার কাঁচা সড়কের মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাকাকরণ।
বরগুনার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে এলজিইডি এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া একান্ত জরুরি।