
তালতলী প্রতিনিধি(বরগুনা): বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ‘শুভ সন্ধ্যা’ সমুদ্র সৈকত। পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর—এই তিন নদীর মোহনায় অবস্থিত সাড়ে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকতটি তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও ঝাউবনের জন্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে বর্তমানে প্রবল ঢেউয়ের আঘাত এবং প্রশাসনিক উদাসীনতায় এই পর্যটন কেন্দ্রটি তার শ্রী হারাতে বসেছে।
ভাঙনের ভয়াবহতা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়:
সরেজমিনে দেখা গেছে, বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের ক্রমাগত আঘাতে সৈকতের আয়তন দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে।
– ঝাউবন বিনাশ: সৈকত রক্ষা কবজ হিসেবে পরিচিত সংরক্ষিত বনের প্রায় ৬০ হাজার ঝাউগাছ ইতোমধ্যে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে শত শত গাছ উপড়ে সৈকতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
অবকাঠামো ধস: সৈকতে নামার জন্য নির্মিত একমাত্র পাকা রাস্তাটিও ঢেউয়ের তোড়ে ভেঙে পড়েছে, যা পর্যটকদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
পর্যটকদের অভিজ্ঞতা ও অসন্তোষ:
দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা সৈকতের বর্তমান অবস্থায় চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তাদের অভিযোগগুলো হলো:
– নিরাপত্তা ও আবাসন: রাত্রিযাপনের জন্য মাত্র দুই কক্ষের একটি ডাকবাংলো (সাম্পান) থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই।
– খাদ্য সংকট: পর্যটকদের জন্য কোনো মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা নেই।
– বিশ্রামাগারের অভাব: দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা পর্যটকদের জন্য সৈকতে বসার বা বিশ্রাম নেওয়ার মতো কোনো শেড বা বেঞ্চ অবশিষ্ট নেই।
“২০১৯ সালের তুলনায় সৈকতটি এখন অনেক ছোট হয়ে গেছে। আগের সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর নেই।” — ফাতিমা আক্তার, পর্যটক।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও আশ্বাস:
সৈকত রক্ষায় স্থানীয়দের মানববন্ধন এবং উপজেলা প্রশাসনের চিঠির প্রেক্ষিতে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান জানান:
– সমুদ্রের ঢেউ থেকে সৈকত রক্ষা করতে জিও টিউব (Geo Tube) ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
– প্রয়োজনীয় বাজেটের চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হবে।
উত্তরণের পথ ও সুপারিশমালা:
শুভ সন্ধ্যা সৈকতকে রক্ষা করে পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ জরুরি:
– জরুরি বাঁধ নির্মাণ: জিও ব্যাগ বা জিও টিউব দিয়ে দ্রুত ভাঙন রোধ করা।
– পুনঃবনায়ন: বিলীন হওয়া ঝাউগাছের পরিবর্তে নতুন করে পরিকল্পিত বনায়ন করা।
– পর্যটকবান্ধব অবকাঠামো: আধুনিক ডাকবাংলো, রেস্তোরাঁ এবং বসার জায়গা নির্মাণ করা।
– বেসরকারি বিনিয়োগ: সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যটন সংস্থাগুলোকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা।
প্রকৃতির দান এই ‘শুভ সন্ধ্যা’ সৈকতটি রক্ষা করা না গেলে বরগুনার পর্যটন খাত বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে। স্থানীয়দের দাবি, টেন্ডার বা বাজেট পাসের অপেক্ষায় না থেকে দ্রুততম সময়ে সৈকত রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।