
তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারের বার্ষিক ইজারা প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ইজারাপ্রাপ্তদের নির্ধারিত স্থানের বাইরে গিয়ে ইজারা (টোল) আদায় না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। নির্দেশনা অমান্য করে নির্ধারিত এলাকার বাইরে ইজারা আদায় করলে তা চাঁদাবাজি হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তালতলী উপজেলা পরিষদের “পায়রা” সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে হাটবাজার ইজারা কমিটির সভায় দরপত্র (টেন্ডার) উন্মুক্ত করা হয়,
সভায় প্রাপ্ত দরপত্রসমূহ উন্মুক্ত করে যাচাই-বাছাই শেষে সর্বোচ্চ দরদাতাদের নামে বাংলা ১৪৩৩ সনের ১৪টি হাটবাজারের মধ্যে ১০টি হাটবাজারের ইজারা অনুমোদন দেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করা হয়,
অন্যদিকে বাকি ৪টি হাটবাজারে কোনো দরপত্র জমা না পড়ায় দ্বিতীয় পর্যায়ে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম ইজারাপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যে যে হাটবাজার ইজারা নিয়েছেন, শুধুমাত্র সেই নির্ধারিত স্থান থেকেই ইজারা আদায় করতে পারবেন। নির্ধারিত হাটের সীমানার বাইরে কিংবা ওই হাটের এক কিলোমিটারের মধ্যে অন্য কোনো স্থানে ইজারা আদায়ের কোনো বিধান বা এখতিয়ার নেই। কেউ যদি এ নির্দেশ অমান্য করে নির্ধারিত স্থানের বাইরে ইজারা আদায় করেন, তাহলে তা চাঁদাবাজি হিসেবে গণ্য হবে।”
তিনি আরও বলেন, ইজারার শর্তাবলি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। অতিরিক্ত টাকা আদায়, ব্যবসায়ীদের হয়রানি বা অননুমোদিত স্থানে টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ইজারা বাতিল করা হতে পারে।
ইউএনও আরও জানান, হাটবাজার পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে ইজারা কার্যক্রম পরিচালিত হলে হাটবাজারে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং সরকারি রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে।
উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে হাটবাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।