
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলার ঘোপখালী গ্রামে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল প্রায় ১১টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঘোপখালী গ্রামের আব্দুল খালেক চৌকিদার ও রহমান আকনের মধ্যে প্রায় এক একর ৫৪ শতাংশ জমি নিয়ে গত এক বছর ধরে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে রহমান আকন তার লোকজন নিয়ে ওই জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে আব্দুল খালেক চৌকিদার বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আব্দুল খালেক চৌকিদার (৫৫), ইমরান চৌকিদার (২০), মালেক চৌকিদার (৫৫), ফরিদ গাজী (৪৮), নুর জাহান (৩৫), আব্দুস সালাম (৩৮), শারমিন (৩০), রুমা (২১), মাকসুদা (৩০), রহমান আকন (৫০), রফিক আকন (৪০), শহিদুল (৪৫), জাহানারা (৪০), মহিবুল্লাহ (২৬) ও ইউসুফ আকন (৬০)সহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান গুরুতর আহত আব্দুল খালেক চৌকিদার, মালেক চৌকিদার, ইমরান চৌকিদার, ফরিদ গাজী, মহিবুল্লাহ, রহমান আকন, রফিক আকন ও শহিদুল আকনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। অন্য আহতদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহত আব্দুল খালেক চৌকিদার অভিযোগ করে বলেন, তার নিজস্ব জমিতে চাষাবাদ করতে বাধা দিলে রহমান আকনের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় এবং কয়েক দফায় তাকে ও তার লোকজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব করে।
অন্যদিকে রহমান আকন অভিযোগ করে বলেন, তিনি জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে আব্দুল খালেক চৌকিদারের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ও তার পক্ষের আরও কয়েকজনকে আহত করে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর আহত ৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।