
দৈনিক শেষকথা। অনলাইন প্রতিবেদন-
বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি |৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বরগুনার বেতাগী উপজেলায় পুরোদমে শুরু হয়েছে মৌসুমী রোপা আমন ধানের চাষাবাদ। উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিতে কৃষকেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন চারা রোপণে। তবে অনেক স্থানে ধানের চারা সংকট দেখা দেওয়ায় এর দাম বেড়ে গেছে। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা কিছুটা হতাশায় পড়েছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বেতাগীতে প্রায় ১২ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন শেষে পুরোদমে রোপণ চলছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্রি ধান-৭১, ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-১০৩ এবং দেশীয় জাতের ধানের চারা রোপণ করছেন কৃষকেরা।
কৃষকেরা বলছেন, গত মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ শুরু হয়। এরপর থেকে একযোগে রোপণ চলছে। তবে টানা বর্ষণে অনেক কৃষকের বীজতলা বিনষ্ট হওয়ায় চারা সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে চারা ও শ্রমিকের দাম। শস্যভাণ্ডারখ্যাত এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে কামলা সংকটও দেখা দিয়েছে। শ্রমিক পাওয়া গেলেও মজুরি দিতে হচ্ছে দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।
হোসনাবাদ জলিশা গ্রামের কৃষক বারেক হাওলাদার (৭২) বলেন, “আমন বীজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে বীজের দাম চড়া।”
অন্যদিকে ঝোপখালী গ্রামের কৃষক আব্দুস সোবাহান মৃধা (৬৮) বলেন, “এই বছর অতিবৃষ্টির কারণে শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। সামান্য শ্রমিক পেলেও মজুরি অনেক বেশি।”
বাজার ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে বিভিন্ন হাটে ১ পণ (৮০ তার) ধানের চারা বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। আবার এককাঠি বীজ (২৬ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকায়।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তানজিলা আহমেদ বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও রোপা আমন চাষাবাদ শুরু হয়েছে। টানা বর্ষণে বীজতলার কিছুটা ক্ষতি হলেও সামগ্রিকভাবে চারা সংকট বা মূল্য বৃদ্ধির তেমন আশঙ্কা নেই। চলতি মাসের শেষ নাগাদ এ আবাদ শেষ হবে।”
তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।